সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:২৮ পূর্বাহ্ন
খেলাধুলা ডেস্ক:
শক্তি-সামর্থে অনেকটাই এগিয়ে ফরাসি চ্যাম্পিয়ন পিএসজি। তবে বাধ সাধলেন পর্তুগিজ চ্যাম্পিয়ন বেনফিকার গোলরক্ষক। আর্জেন্টাইন তারকা লিওনেল মেসির দুর্দান্ত এক গোলের পরও ম্যাচ গড়িয়েছে ড্র-তে। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ‘এইচ’ গ্রুপের ম্যাচে বুধবার রাতে ১-১ গোলের সমতা নিয়ে মাঠ ছেড়েছে দুই দল।
দুই দলই আগের ম্যাচে জয় নিয়ে মাঠে নেমেছিল প্রচণ্ড আত্মবিশ্বাস নিয়ে। আক্রমণাত্মক ফুটবলে জমেও উঠেছিল ম্যাচ। অবশ্য প্রথমার্ধে বল দখলে এগিয়ে থাকে পিএসজি। তবে পরপর বেশ কয়েকটি সুযোগ তৈরি করে বেনফিকা।
ম্যাচের প্রথমার্ধের অষ্টম মিনিটেই গনসালো রামোসের শট পা দিয়ে ঠেকিয়ে দেন ইতালিয়ান গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মা। এর মিনিট ছয়েক পরেই দূর থেকেই শট নেন পর্তুগিজ ফরোয়ার্ড গনসালো রামোস। তবে বল এবার সরাসরি চলে যায় গোলরক্ষকের হাতে। এতে বিপদ কাটে পিএসজির।
ম্যাচে ১৬ তম মিনিটে ফ্রি-কিক পায় পিএসজি। প্রথমবারের মতো গোল পোস্ট বরাবর শট নেয় ফরাসি দলটি। তবে মেসির নেওয়া ফ্রি-কিক শট বাধা পায় দেয়ালে। দুই মিনিট পরে পাল্টা আক্রমণে যায় বেনফিকা। তবে এ যাত্রাতেও প্রাচীর হয়ে দাঁড়ান দোন্নারুম্মা। দাভিদ নেরেসের শট দারুণভাবে ঠেকিয়ে দেন তিনি। তবে বিনিময়ে কর্নার শট পায় বেনফিকা। এটিসহ মোট পাঁচটি কর্নার কিক পায় পর্তুগিজ দলটি। অন্যদিকে পিএসজি পায় ছয়টি।
পরিসংখ্যানে তাকালে পুরো ম্যাচে আধিপত্য দেখা যায় পিএসজিরই। ঘরের মাঠে ৬৫ শতাংশ সময়ে নিজেদের দখলেই বল রাখে মেসি-নেইমার-এমবাপ্পেরা। স্বাভাবিকভাবে পাসেও বেশ এগিয়ে তারা। মোট ৭০০টি পাস দিয়েছে তারকাবহুল পিএসজি। বিপরীতে বেনফিকার পাস সংখ্যা ৩৭৬টি।
এই দাপুটে নৈপুণ্যেই ম্যাচের ২১তম মিনিটেই এগিয়ে যায় পিএসজি। এমবাপ্পেকে বল বাড়িয়ে ডি-বক্সের দিকে ছুটে যান মেসি। এমবাপ্পে বল দেন ব্রাজিলিয়ান তারকা নেইমারকে। তিনি আবার পাস করেন ডি-বক্সে। বাকি কাজ নিপুণভাবে সম্পন্ন করেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক। চলতি আসরে লিওনেল মেসির দ্বিতীয় গোল এটি।
অবশ্য এরপরও আক্রমণ থামিয়ে রাখেনি রজার শ্মিডের দল বেনফিকা। সফলতা আসে ৪২তম মিনিটে। অবশ্য এনসো ফের্নান্দেসের ক্রসে লাফিয়েও মাথা ছোঁয়াতে পারেননি গনসালো রামোস। কিন্তু লাইনেই থাকা ডিফেন্ডার দানিলো পেরেইরার গায়ে লাগে বল। আর দিক পাল্টে জাল কাঁপায় বল। সমতায় ফেরে বেনফিকা।
দ্বিতীয়ার্ধেও মাঠে নেমে একের পর এক আক্রমণ চালিয়ে যেতে থাকে দুই দলই। শুরুতেই এগিয়ে যাওয়ার সুযোগও পায় পিএসজির। ৪৮তম মিনিটে আশরাফ হাকিমির শট গোলরক্ষক কোনোমতে ফিরিয়ে দেওয়ার পর নেইমারের দর্শনীয় বাইসাইকেল কিকও ব্যর্থ হয়। বল ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে।
এর মিনিট তিনেক পরেই হাকিমির কাট ব্যাক মাঝপথেই কর্নারের বিনিময়ে ঠেকিয়ে দেন বেনফিকা গোলরক্ষক ওদিসিয়াস ভ্লাকোদিমোস। এরপর আক্রমণ কমিয়ে রক্ষণে মনযোগ দেয় বেনফিকা। আর রক্ষণের সেই দেয়াল বেশ কয়েকবার সুযোগ সৃষ্টি করেও ভাঙতে পারেনি পিএসজি।
গ্রুপের অন্য ম্যাচে খাইফাকে ৩-১ গোলে হারিয়ে আসরে নিজেদের প্রথম জয় পেয়েছে জুভেন্টাস। আর ‘এফ’ গ্রুপের ম্যাচে সান্তিয়াগো বের্নাবেউয়ের বিপক্ষে ২-১ গোলে জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে রিয়াল মাদ্রিদ।
ভয়েস/আআ